চিড়িয়াখানার ১০০ কোটি টাকা মূল্যের দুই একর জমি অবৈধ দখলে

রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানার ১০০ কোটি টাকা মূল্যের দুই একর জমি অবৈধ দখলে। নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েও দখলমুক্ত করা যায়নি এ জমি। বরং দখলমুক্ত করতে গিয়ে চিড়িয়াখানার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নাজেহালের শিকার হতে হয়। এ জমিতে দখলদাররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে গড়ে তুলেছেন অস্থায়ী স্থাপনা। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে দেড় শতাধিক বস্তি, হোটেল, পান সিগারেটের দোকান ও রিকশার গ্যারেজ। এভাবে চক্রটি এ স্থান থেকে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। ফলে বদলে গেছে চিড়িয়াখানার মানচিত্র। হারিয়ে যেতে শুরু করেছে দুই হাজার প্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিপন্ন হতে পারে অবোধ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন। অভিযোগ উঠেছে, চিড়িয়াখানার এ জমিতে এলাকার বাসিন্দা মোখতার হোসেন ও বাবুল তালুকদার নামে দুই ব্যক্তি দখল পাকাপোক্ত করেছেন। তারা ২০০৭ সালের জুন মাসে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ থেকে ওই জায়গা লিজ আনেন। বিষয়টি জানার পর চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি এ সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তা দখল না ছাড়তে নানাভাবে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জমিতে একতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত ভবন নির্মিত হয়েছে। পুরো এলাকায় ১৭টি ভবন নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া সীমানা প্রাচীরের পশ্চিম পার্শ্বে দেখা গেছে, কয়েক ব্যক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। এসব স্থাপনা ভাড়াও দেওয়া হয়েছে। ভবনে বসবাসকারীদের দাবি, তারা অবৈধ পন্থায় মালিকানা নেননি। স্থানীয় মুদি দোকানের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, এ জায়গায় প্রায় পাঁচ বছর আগে দোকান ঘর নির্মাণ করার পর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ হঠাৎ জমির মালিকানা দাবি করে আমাদের উচ্ছেদের নোটিস দেয়। আমি নোটিস পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। এ বিষয়ে একটি মামলা চলমান আছে। নোটিস প্রদানের কয়েক দিন পর সেখানে খুঁটি গেড়ে দেয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালে চিড়িয়াখানা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার সময় জমির পরিমাণ ছিল ২১৩ দশমিক ৪১ একর। দখলের পর জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১১ দশমিক ৩৫ একর। অবৈধভাবে দখলের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, নানা কারণে ২ একর জমি বেদখলে ছিল। এর মধ্যে কিছু জমি দখলদার মুক্ত করা হয়। বেদখল হওয়া ২ একর জমির বাজার মূল্য ১০০ কোটি টাকার মতো। জমি উদ্ধারের বিষয়ে মিরপুর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তা আফরোজা বেগম বলেন, চিড়িয়াখানার জমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসকের অফিসে পত্র দেওয়া হয়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী মালিকানা জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নামে রয়েছে। এ ছাড়া চিড়িয়াখানার নামে এ দুই একর জমির খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাবুল তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

Spread the love

নিউজটি পড়া হয়েছে : 664 বার

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭ crime-tv.com
শিরোনাম :
★★ শিল্পমন্ত্রীর নামে চাঁদাবাজি, এসআইকে অব্যাহতি ★★ তুরাগ বাসে ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা, প্রতিবাদে অর্ধশতাধিক বাস আটক ★★ প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত গেলেন ওবায়দুল কাদের ★★ বিভিন্ন অপরাধে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা ★★ ‘সিইসির বক্তব্য বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কৌশল’ ★★ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইলেন কাদের সিদ্দিকী ★★ ছেলেকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা ★★ নোয়াখালীতে সহস্রাধিক লোক বিএনপি থেকে আ’লীগে যোগদান ★★ ‘মাথায় হাত দিয়ে কথা দেন, নয়তো আমার মৃত্যুর খবর শুনবেন’ ★★ রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে হাসপাতাল করে দেবে মালয়েশিয়া