হাত বাড়ালেই মাদক মুন্সীগঞ্জে

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিসিক এলাকা, মুক্তারপুর, দয়ালবাজার, ডিঙ্গাভাঙ্গা, আদারিয়াতলা ফিরিঙিবাজার, পশ্চিম মুক্তারপুর ও বনিক্যপাড়া এলাকায় মাদকের জমজমাট ব্যবসায় এখন সয়লাব। কয়েক শতাধিক লোক এই ব্যবসার সাথে জড়িত। রাতের আধারে এখানে শতাধিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক বেচা কিনা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য মাদক ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসার ধরণ পরিবর্তন করেছেন। অনেক মাদক ব্যবসায়ী তাদের কাছে মাদক রাখেন না। তারা যেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন তার আশ পাশে বিশেষ চিহ্নিত স্থানে কিংবা ধুর্বা বা গাছের আড়ালে অথবা ঝোপঝাড়ের মধ্যে সিগারেট বা ম্যাচের প্যাকেটের ভেতর মাদক রেখে দেন। সেখানে চাহিদা অনুযায়ী মাদক সেবনকারীদের কাছে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করলেও পরে তারা জেল থেকে ফিরে এসে আবার সেই পুরানো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরছেন। এখানে মাদকের ভয়াবহতা ব্যাপক আকার ধারণ করছে। এলাকাটি ঘন বসতি হওয়ায় মাদকের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে গ্রেফতারের পরিমাণ আশানুরুপ নয়। এখানে নি¤œ আয়ের লোক বেশি বসবাস করে। তাদের পরিবারের লোকেরাই এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। একই পরিবারে একাধিক লোক এই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরেছে। মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে ধনী গরীব সব শ্রেণি পেশার লোক।

তবে অনেক বিত্তশালী এখাতে বিনিয়োগ করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এখানে যে পরিমাণ মাদক বিক্রি হয় সেই পরিমাণ মাদক এখান থেকে উদ্ধার হওয়ার নজির চোখে পরেনি। এখানে যে পরিমাণ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন সেই পরিমাণ গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে এখানে মাদক ব্যবসায়িরা উৎসাহিত হয়েছে।

এখানে দাপটের সাথে যারা বর্তমানে মাদক ব্যবসায় শীর্ষে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তারা হচ্ছেন, ডিঙ্গাভাঙার মো: সরুর হোসেন মন্ডলের পুত্র মনির মন্ডল। ডিঙ্গাভাঙা মসজিদের পূর্বদিকে তার বাড়ি। সে এখানে মাদক ব্যবসায় টপ হিরু হিসেবে অবস্থান করছেন। সে একাধিক পকেটের প্যান্ট পরেন শুধু মাদক ব্যবসার জন্য। তার শরিরে বিভিন্ন স্থানে মাদক বহন করে ঘুরে ঘুরে তা বিক্রি করেন এমন অভিযোগ ভূরিভূরি। তার বয়স ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। এই ব্যবসায় সে কাউকে পাত্তা দেন না। কারণ হচ্ছে তার অভিযোগ সে সকলকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা করছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করেছন, কিন্তু সে জেল থেকে ফিরে আবার সেই পুরনো মাদক ব্যবসায় ফিরে গেছেন। সে ২০০৪ সাল থেকে এই ব্যবসা করছেন। তার দুই চাচাতো ভাই আবুল হোসেন মন্ডল ও ইউসুফ মন্ডল এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা যায়। মনির মন্ডলের বাবা একজন চাকরিজীবি বলে জানা গেছে। মনির মুলত গাজা বিক্রি করেন। ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের মো: ইসমাইল মন্ডলের পুত্র আবুল হোসেন মন্ডল ওরফে আবুইল্লা ২০১৩ সালের দিকে এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হন। তিনি মুলত ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করেন। ডিঙ্গাভাঙা মসজিদের পূর্বপাশে তার বাড়ি। তার বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। তার পিতা গবাদি পশু পালন করেন। এখানে সে ও তার ভাই ইউসুফ মন্ডল ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রিতে টপ পজিশনে রয়েছেন। এই দুই ভাই একই বছরে এই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরেন। ইউসুফের কাছে একটি চোরাই মোটর সাইকেল রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই মোটর সাইকেল দিয়েই সে মাদক সরবরাহ করেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এই মাদক ব্যবসার সাথে নারীরাও জড়িয়ে পড়েছে। আর সেই নারী হচ্ছে আমেলা বেগম। সে আজি বেগমের মেয়ে বলে জানা যায়। তার বাড়ি তাতীবাড়ি ডিঙ্গাভাঙা গ্রামে। তার বয়স হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে। সে মুলত গাজা বিক্রি করে। সে ২০১৫ সালের দিকে এই মাদক ব্যবসায় আসেন। এই বাজারে সে নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।

ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের ফকিরবাড়ির মো: আবুল শেখের পুত্র দিদার হোসেন ওরফে বুলেট একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে জানা যায়। তার পিতা মো: আবুল শেখ একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার বয়স ২২ থেকে ২৪ বছরের মতো। সে ২০১৪ সালে এই মাদক ব্যবসায় জড়িত হন। ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের (পূর্বপাড়া) মো: ইউসুফ বেপারীর পুত্র আল আমিন। সে ইয়াবা বিক্রি করেন। সে ২০১৪ সালে এই ব্যবসায় জড়িয়ে পরেন। গত দুই সপ্তাহ আগে সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তবে ব্যবসায় নাকি সেবনকারী হিসেবে চালন দেয়া হয়েছে তা জানা যায়নি। ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের (দক্ষিণপাড়া) মাহালম শেখের পুত্র নিজাম ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করেন। তার পিতা প্রবাসি। তার বয়স ৩৬ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে।

সে ২০১৩ সালের দিকে এই জড়িয়ে পরেন। আদারিয়াতলা গ্রামের (চেয়ারম্যানবাড়ি) মো: আমির ওস্তাকারের পুত্র মামুন। সে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে জানা য়ায়। তার বয়স হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। সে ২০১৪ সালের দিকে এই ব্যবসায় জড়িত হন। ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের (পূর্বপাড়া) মো: আব্দুল মিয়ার পুত্র রোমান। তার পিতা আমিনের কাজ করেন। সে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করেন। তার বয়স হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। সে ২০১৪ সালের দিকে এই ব্যবসায় আসেন।

সরকারপাড়ার পোদ্দারবাড়ির মহিউদ্দিন ওরফে মহইন্নার পুত্র শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহাবদি একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার পিতা রিক্সা চালক। তার বয়স হচ্ছে ২২ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে। সে ২০১০ সালে এই ব্যবসার সাথে জড়িত হন। সরকারপাড়ার (অজিৎ ডাক্তারের ফার্মেসির সাথে) মো: হইক্কা দেওয়ানের পুত্র মো: আলী দেওয়ান ওরফে আলীও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানা যায়। এই ব্যবসার পাশাপাশি সে ছিনতাই করেন বলে শোনা যাচ্ছে। তার গবাদি পশু পালনের সাথে জড়িতটা সাইনবোর্ড বলে জানা যায়। তার বয়স হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। সে ২০১০ সালের দিকে এই ব্যবসা শুরু করেন বলে একটি সূত্র জানায়।

সরকারপাড়ার পোদ্দারবাড়ির মহিউদ্দিন ওরফে মহইন্নার পুত্র মিজানুর রহমান মিজানও এপথে এসেছে বলে জানা যায়। তার পিতা রিক্সা চালক। তার বয়স ৩২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। সে সুযোগ পেলে ছিনতাই কাজের সাথেও জড়িয়ে পরেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে ২০১২ সালে দিকে এই ব্যবসায় আসেন। ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের (ছাদু মাদবরের বাড়ি) মো: আকাশ বেপারির পুত্র রিপন বেপারিও। সে ইয়াবা ও মদ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তার পিতা গবাদি পশু পালনে কাজের সাথে জড়িত। তার বয়স ৪০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। সে ২০০৬ সালে এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হন এমনই অভিযোগ রয়েছে তার বিরূদ্ধে।

আদারিয়াতলা গ্রামের (নয়াবাড়ি পশ্চিম পাশে) আলী ওরফে ছোট আলী ইয়াবা ব্যবসা করেন বলে জানা যায়। তার বয়স হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। সে ২০১৫ সালের দিকে এই ব্যবসয় জড়িয়ে পড়েন বলে জানা যায়। সরকারপাড়া (পোদ্দার বাড়ি) গ্রামের মো: সহিদ কানার পুত্র সাগর। সে ২০১০ সালের দিকে ইয়াবা ব্যবসার জড়িত হন। তার পিতা পিঠা বিক্রেতা। তার বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। সে মাঝে মাঝে মধ্যে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িয়ে পরেন। আদারিয়াতলা গ্রামের আমিন হক মন্ডলের ছেলে রাজিব। সে ২০১২ সালের দিকে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেন বলে একটি সূত্র জানায়। তার পিতা কৃষি কাজের সাথে জড়িত। তার বয়স হচ্ছে ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তাতিবাড়ির ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের মদন আহমেদের পুত্র আজিজ ২০১৩ সাল থেকে গাজা ব্যবসা শুরু করেন বলে জানা যায়। তার বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। মাদবরের বাড়ির মো: হাতেম সাবেক মেম্বার ২০০৬ সালের দিকে গাজা ব্যবসা শুরু করার অভিযোগ উঠেছে। তার বয়স হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। নাপতাবাড়ির ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের মনির দেওয়ান ওরফে মনির ২০০৮ সালের দিকে গাজা ব্যবসা শুরু করেন বলে একটি সূত্র জানায়। তার বয়স হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৭ বছর মধ্যে। চেয়ারম্যান বাড়ির আদারিয়াতলা গ্রামের মৃত আ: খালেক ২০১৪ সালের দিকে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেন। তার বয়স হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। বিনোদপুর গ্রামের আরমান চোকদারের পুত্র লিটন চোকদার ইয়াবা ও মদ বিক্রি করেন। তার বয়স ৪৫ এর কোঠায়। বর্তমানে ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের হেলুমিয়ার বাড়িতে থাকেন। ডিঙ্গাভাঙা গ্রামের বাদল মিয়ার পুত্র শুভ। ২০ থেকে ২২ বছর বয়সের এই ব্যক্তি ইয়াবা ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। বানিক্যপাড়া প্রাইমারী স্কুলের পাশে মোতা ডাক্তারের পুত্র সনিও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠেছে। এলাকার রকিও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা যায়। সে বর্তমানে জেলে আছে। এদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জনগণ জোর দাবী জানিয়েছে।

Spread the love

নিউজটি পড়া হয়েছে : 295 বার

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭ crime-tv.com
শিরোনাম :
★★ শিল্পমন্ত্রীর নামে চাঁদাবাজি, এসআইকে অব্যাহতি ★★ তুরাগ বাসে ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা, প্রতিবাদে অর্ধশতাধিক বাস আটক ★★ প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত গেলেন ওবায়দুল কাদের ★★ বিভিন্ন অপরাধে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা ★★ ‘সিইসির বক্তব্য বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কৌশল’ ★★ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইলেন কাদের সিদ্দিকী ★★ ছেলেকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা ★★ নোয়াখালীতে সহস্রাধিক লোক বিএনপি থেকে আ’লীগে যোগদান ★★ ‘মাথায় হাত দিয়ে কথা দেন, নয়তো আমার মৃত্যুর খবর শুনবেন’ ★★ রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে হাসপাতাল করে দেবে মালয়েশিয়া