রেমিট্যান্স আয় কমছে : বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্বিগ্ন

গত কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্স আয় কমছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকও উদ্বিগ্ন। অনেকেই রেমিট্যান্স কমায় রিজার্ভে প্রভাব পড়বে বলে আশংকা করছেন। এদিকে প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই আশংকাজনকভাবে কমছে আয়। এজন্য দায়ী করা হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতাকে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমলেও দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যসহ সাত দেশ থেকেই রেমিটেন্স কমেছে ৭১ কোটি ডলার। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা করে)। এ দেশগুলো হচ্ছে- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুর। তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০১৫-১৬) সাত দেশ থেকে রেমিটেন্স এসেছে ৯৮৩ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরে (২০১৪-১৫) ছিল ১ হাজার ৫৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এসব দেশ থেকে রেমিটেন্স কমেছে ৭১ কোটি ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কার্ব মার্কেট নিয়ন্ত্রণে এখনই বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোর খরচ অনেক বেশি। কস্ট অব রেমিটেন্স বা রেমিটেন্স পাঠানোর ফি মুক্ত রাখা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে কিছু অর্থ দেয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৭ শতাংশ রেমিটেন্স কমেছে সিঙ্গাপুর থেকে। এ সময় দেশটি থেকে রেমিটেন্স আসে ৩৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশ রেমিটেন্স কমেছে সৌদি আরব থেকে। গত অর্থবছরে রেমিটেন্স আসে ২৯৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৬ শতাংশ রেমিটেন্স কমেছে বাহরাইন থেকে। গত অর্থবছরে এ দেশটি থেকে রেমিটেন্স আসে ৪৮ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫৫ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আয় হয়েছে ২৭১ কোটি ১৭ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮২ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। কমেছে ৪ শতাংশ। কুয়েত থেকে রেমিটেন্স আসে ১০৩ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। আগের বছর ছিল ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এ দেশ থেকে রেমিটেন্স কমেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। মালয়েশিয়া থেকে রেমিটেন্স আয় হয়েছে ১৩৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার। আগের বছর ছিল ১৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার। কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ওমান থেকে রেমিটেন্স আসে ৯০ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। যা আগের বছর ছিল ৯১ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এ হিসাবে রেমিটেন্স কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় মন্দা সৃষ্টি হয়েছে। এতে এ দেশগুলোতে শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। কোথাও কোথাও শ্রমিক ছাঁটাইয়েরও নজির রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলের তুলনায় খোলা বাজারে ডলারের দামে ৩ থেকে ৪ টাকার ব্যবধান হওয়ায় হুন্ডির দিকে ঝুঁকছেন গ্রাহকরা।

Spread the love

নিউজটি পড়া হয়েছে : 348 বার

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭ crime-tv.com
শিরোনাম :
★★ শিল্পমন্ত্রীর নামে চাঁদাবাজি, এসআইকে অব্যাহতি ★★ তুরাগ বাসে ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা, প্রতিবাদে অর্ধশতাধিক বাস আটক ★★ প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত গেলেন ওবায়দুল কাদের ★★ বিভিন্ন অপরাধে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা ★★ ‘সিইসির বক্তব্য বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কৌশল’ ★★ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইলেন কাদের সিদ্দিকী ★★ ছেলেকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা ★★ নোয়াখালীতে সহস্রাধিক লোক বিএনপি থেকে আ’লীগে যোগদান ★★ ‘মাথায় হাত দিয়ে কথা দেন, নয়তো আমার মৃত্যুর খবর শুনবেন’ ★★ রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে হাসপাতাল করে দেবে মালয়েশিয়া